কোনটি তড়িৎ অপরিবাহী?

Updated: 1 year ago
  • লবণ
  • লোহা
  • চিনি
  • সোনা
2k
ব্যাখ্যাঃ

বস্তুর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে সেগুলোকে তড়িৎ পরিবাহী (Conductor) এবং তড়িৎ অপরিবাহী (Insulator) এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে সহজে তড়িৎ প্রবাহিত হতে পারে, তাদের তড়িৎ পরিবাহী বলে। এর কারণ হলো এসব পদার্থের মধ্যে মুক্ত ইলেকট্রন অথবা আয়ন (ion) থাকে, যা তড়িৎ পরিবহনে সক্ষম। অন্যদিকে, যে সকল পদার্থের মধ্য দিয়ে তড়িৎ সহজে প্রবাহিত হতে পারে না, তাদের তড়িৎ অপরিবাহী বলে। এদের মধ্যে তড়িৎ পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় মুক্ত ইলেকট্রন বা আয়ন থাকে না।

        
  • লবণ (সোডিয়াম ক্লোরাইড, NaCl): এটি একটি আয়নীয় যৌগ। কঠিন অবস্থায় এটি তড়িৎ অপরিবাহী হলেও, গলিত অবস্থায় বা জলীয় দ্রবণে এটি Na+ এবং Cl- আয়নে বিভক্ত হয়ে যায়। এই আয়নগুলো মুক্তভাবে চলাচল করতে পারে বলে লবণ জলীয় দ্রবণে বা গলিত অবস্থায় তড়িৎ পরিবহন করে। তাই এটি একটি তড়িৎ পরিবাহী।
  •     
  • লোহা (Iron, Fe): লোহা একটি ধাতু। ধাতব পদার্থের অণুতে মুক্ত ইলেকট্রন (free electrons) থাকে, যা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলাচল করতে পারে। এই মুক্ত ইলেকট্রনগুলির উপস্থিতির কারণে লোহা একটি উত্তম তড়িৎ পরিবাহী।
  •     
  • চিনি (সুক্রোজ, C12H22O11): চিনি একটি সমযোজী যৌগ। এটি পানিতে দ্রবীভূত হলেও আয়নিত হয় না এবং এর মধ্যে কোনো মুক্ত ইলেকট্রনও থাকে না। তাই এটি তড়িৎ পরিবহন করতে পারে না। চিনি একটি তড়িৎ অপরিবাহী।
  •     
  • সোনা (Gold, Au): সোনাও একটি ধাতু। লোহার মতোই এর অণুতে মুক্ত ইলেকট্রন থাকে, যা সহজেই তড়িৎ পরিবহন করতে পারে। সোনা একটি চমৎকার তড়িৎ পরিবাহী।

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, লোহা, সোনা এবং গলিত বা দ্রবীভূত লবণ তড়িৎ পরিবাহী। কিন্তু চিনি একটি সমযোজী যৌগ হওয়ার কারণে এটি তড়িৎ পরিবহন করে না। তাই চিনি হলো তড়িৎ অপরিবাহী।

Satt AI
Satt AI
1 week ago

সকল পদার্থের তড়িৎ পরিবহন ক্ষমতা এক নয়। আবার কিছু কিছু পদার্থ তড়িৎ পরিবহনই করতে পারে না। তড়িৎ পরিবহনের ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে পদার্থসমূহকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা :

 

১. তড়িৎ অপরিবাহী (Insulator) : যে সকল পদার্থের মধ্যদিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত অর্থাৎ চলাচল করতে পারে না তাদের তড়িৎ অপরিবাহী বলা হয়। সাধারণত সমযোজী যৌগসমূহই তড়িৎ পরিবহনে অক্ষম। যেমন— কাঁচ, রাবার, চিনি, পেট্রোল ইত্যাদি। এ ছাড়া প্রায় সকল অধাতব মৌলসমূহই তড়িৎ অপরিবাহী।

২. তড়িৎ পরিবাহী (Conductor) : যে সমস্ত পদার্থের মধ্যদিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত হতে পারে তাদের তড়িৎ পরিবাহী বলা হয়। যেমন— সকল ধাতুসমূহ, এসিড এবং ক্ষারের দ্রবণ, সকল লবণের দ্রবণ ও গ্রাফাইট, সোনা, রূপা, কপার ইত্যাদি।

 

তড়িৎ পরিবাহীর প্রকারভেদ (Classification of electrical conductors)

তড়িৎ পরিবহনের কৌশলের উপর নির্ভর করে তড়িৎ পরিবাহী পদার্থসমূহকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন :

 

 

  • ধাতব পরিবাহী (Metallic Conductor ) : যে সকল তড়িৎ পরিবাহী পদার্থের মধ্যদিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহের সময় পদার্থের কোনোরূপ রাসায়নিক পরিবর্তন হয় না , তাদেরকে ধাতব পরিবাহী বলা হয়। সাধারণত ইলেকট্রনের প্রবাহের ফলে তড়িৎ প্রবাহিত হয় বলে ধাতব পরিবাহীসমূহকে ইলেকট্রনীয় পরিবাহীও বলা হয়। যেমন : সকল ধাতু, গ্রাফাইট (গ্রাফাইট অধাতব কঠিন মৌল হলেও সেটির মধ্য দিয়ে ইলেকট্রনের প্রবাহ ঘটে)। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে ধাতব পরিবাহীর পরিবাহীতা হ্রাস পায়। যেহেতু রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটেনা তাই এটি ভৌত পদ্ধতি।
  • তড়িৎ বিশ্লেষ্য পরিবাহী (Electrolytic Conductor) : যে সকল তড়িৎ পরিবাহী পদার্থের মধ্যদিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করলে, পদার্থসমূহ রাসায়নিকভাবে পরিবর্তিত হয়ে নতুন ধর্ম বিশিষ্ট পদার্থে পরিণত হয় তাদের তড়িৎ বিশ্লেষ্য পরিবাহী বলা হয়। তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থসমূহ বিগলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় তড়িৎ পরিবহন করে এবং তড়িৎ পরিবহনের সময় পরিবাহীসমূহ বিশ্লেষিত হয়ে নতুন পদার্থে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়নের মাধ্যমে তড়িৎ প্রবাহ ঘটে।
  • ধনাত্মক আয়ন যে দিকে প্রবাহিত হয় তড়িৎ প্রবাহ সেদিকে এবং ঋণাত্মক আয়ন যেদিকে প্রবাহিত হয় তড়িৎ প্রবাহ তার বিপরীত দিকে ঘটে। যেহেতু তরলের মধ্য দিয়ে ক্যাটায়নগুলো ক্যাথোডে এবং অ্যানায়নগুলো অ্যানোডে যায় সেহেতু তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থের মধ্যে সর্বদা অ্যানোড থেকে ক্যাথোডে তড়িৎ প্রবাহ হয়। যেমন— সকল লবণসমূহের দ্রবণ, এসিড, ক্ষার ইত্যাদি।

তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থসমূহ আবার দুই প্রকার। যথা—

  • তীব্র তড়িৎ বিশ্লেষ্য (Strong Electrolyte) : যে সকল তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থসমূহ দ্রবণে প্রায় সম্পূর্ণরূপে আয়নিত অবস্থায় থাকে তাদেরকে তীব্র তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বলা হয়।
  • মৃদু তড়িৎ বিশ্লেষ্য (Weak Electrolyte) : যে সকল তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ দ্রবণে আংশিক আয়নিত অবস্থায় থাকে তাদের মৃদু তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বলা হয়।

Related Question

View All
Updated: 1 year ago
  • লোহা ও কার্বনের শংকর
  • দস্তা ও নিকেলের শংকর
  • তামা ও পিতলের শংকর
  • দস্তা ও পিতলের শংকর
  • দস্তা ও তামার শংকর
1k
Updated: 1 year ago
  • NaCl (গলিত)
  • CuSO4 (দ্রবন)
  • FeSO4 (দ্রবন)
5k
  • Pb 75%, Sn 5%, Sb 20%
  • Pb 80%, Sn 5%, Sb 15%
  • Pb 70%, Sn 10%, Sb 20%
  • Pb 75%, Sn 10%, Sb 15%
1.3k
  • প্লাটিনাম দ্বারা তৈরি অ্যানোডে অক্সিজেন উৎপন্ন হয়
  • কপার অ্যানোড ব্যবহৃত হলে দ্রবণের বর্ণ হালকা হয়
  • ইলকট্রো -বিশ্লেষণের ফলে ক্যাথোডের ভর বৃদ্ধি পায়
  • প্লাটিনাম দ্বারা তৈরি ক্যাথোডে অক্সিজেন উৎপন্ন হয়
1.9k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই